মানিকগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে সিজার করার অভিযোগ
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এমদাদুল হক ইমনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা করে বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঘিওর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত ঘিওর আধুনিক হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি সিজারিয়ান অপারেশন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমন। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বুধবার দুপুরে ঘিওর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ডাকে সেখানে যান তিনি। ওই হাসপাতালে ইতি (২০) নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করেন।
অপারেশনের সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে ডা. পুতুলের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুতুল নামের ওই নারী মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১২০ নম্বর কক্ষে রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার কাজে নিয়োজিত। তার সঙ্গে চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে। উচ্চশিক্ষিত হলেও তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে দক্ষ নন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট আলো আক্তার, সিনিয়র নার্স বাসনা ও পরিচালক সাব্বির হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, চিকিৎসক এমদাদুল হক ও এক নারী একটি প্রাইভেটকারে করে হাসপাতালে এসে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন। সিজারিয়ান অপারেশন শেষে সন্ধ্যার আগেই তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হোসেন বলেন, ইতি নামে এক প্রসূতির অপারেশনের জন্য তিনি চিকিৎসক এমদাদুল হককে মুঠোফোনে জানান। পরে তিনি অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে আসেন এবং অপারেশন শেষে চলে যান।
মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে অপারেশন করার বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া পুতুল নামে কোনো অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক মানিকগঞ্জে কর্মরত নেই। ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের লাইসেন্সও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১২০ নম্বর কক্ষে চিকিৎসক সুবর্ণার সঙ্গে রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার কাজে নিয়োজিত পুতুল জানান, বিকেলে তিনি হাসপাতাল থেকে একটি প্রাইভেটকারে চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনের সঙ্গে ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক এমদাদুল অপারেশন করেন। এ সময় তিনি অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।
পুতুল আরও জানান, চিকিৎসক এমদাদুল তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিজের সহকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। অপারেশন শেষে তারা একই প্রাইভেটকারে ফিরে আসেন। পরে তাকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমন বলেন, “আমি ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে যাইনি।”
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য কোনো হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ছাড়া চিকিৎসক ছাড়া অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, দায়িত্ব পালনকালে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়া চাকরিবিধি লঙ্ঘনের শামিল। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
