কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ জালিয়াতি, রংপুরে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ক্লোন করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে মো. আব্দুস সালাম (৪৪) নামের এক সাবেক মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এসআরবি-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বুধবার রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম পীরগঞ্জ থানার বড় মাজিদপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
মামলার এজাহার, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন পদে আবেদন করেন।
আনুমানিক ১০০ জন আবেদনকারীকে নিয়ে রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে ভুয়া নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরে রাজশাহীতে প্রার্থীদের ভুয়া মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিভিন্ন পদে ৪২ জনের চূড়ান্ত নিয়োগের একটি ভুয়া অফিস আদেশ প্রকাশ করা হয়। এভাবে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ক্লোন করা ভুয়া ওয়েবসাইটটি বন্ধের ব্যবস্থা নিতে কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এসআরবি-১৩ জানায়, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে বীমার নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপনের কথা বলে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীদের একজন মো. ফরহাদুল ইসলাম মন্ডল (২৯) বাদী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জ থানায় একটি প্রতারণা মামলা করেন। মামলায় আব্দুস সালামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৩২।
ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে রংপুর মহানগরীর আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের ফাঁকা পাতা এবং চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এসআরবি-১৩-এর ওই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার আসামি ও জব্দ করা আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, প্রতারণা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
