রূপপুরে ইউরেনিয়ামের নতুন চালান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামবাহী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে শনিবার রাত ৩টার দিকে তিনটি লরিতে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়।

এ সময় সড়কে যানজট এড়াতে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি অ্যাসেম্বলি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালান পৌঁছেছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও সাতটি ফ্লাইটে জ্বালানি আসার কথা রয়েছে।

এদিকে, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অনুমোদনের পর শুক্রবার বিকেলে শুরু হয়েছে পাওয়ার স্টার্টআপ বা সি-স্টেজের কার্যক্রম।

এ পর্যায়ে চুল্লির চাপ ও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, চুল্লির ক্ষমতা ধাপে ধাপে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য থাকলেও তা নির্ভর করবে পরীক্ষার ফল ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান জানান, সি-স্টেজে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। চুল্লির ক্ষমতা শূন্য থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

এর আগে ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম চলছে। তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক পরিচালনায় যেতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।