দারিদ্র্যকে হারিয়ে এ প্লাস, আরাফাতের স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

জীবন যখন পদে পদে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম কীভাবে সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সাফল্যের পথ দেখায়, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মো. আরাফাত খান।

সদ্য সমাপ্ত এইচএসসি (বা সমমান) পরীক্ষায় মির্জাগঞ্জ উপজেলার আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় অংশ নিয়ে উপজেলার সাতটি কলেজের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার মোট ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করেছেন তিনি।

বিশেষ করে, তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের পাসের হার ছিল ৪৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ।

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মর্মান্তিক ও দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। আরাফাত খান মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা ৪র্থ খণ্ড গ্রামের মৃত মো. ইসমাইল খানের ছেলে। আরাফাত যখন দশম শ্রেণির ছাত্র, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে তার বাবা ইসমাইল খানের মৃত্যু হয়। বাবার ছায়া হারানোর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে চরম আর্থিক দুর্দশা ও অনিশ্চয়তা। তার বড় ভাই মো. আলামিন জন্ম থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

পরিবারের এমন সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেন আরাফাতের বড় বোন। উচ্চশিক্ষিত না হওয়ায় ভালো কোনো চাকরি না পেলেও তিনি দমে যাননি। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চালু রাখতে পোশাক শ্রমিকের কঠিন কাজ বেছে নেন তিনি। বোনের ঘাম ঝরানো আয় ও কষ্টার্জিত অর্থের ওপর ভর করেই এতদূর এগিয়ে এসেছেন আরাফাত।

বর্তমানে বরিশালে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাড়ি থেকে পাঠানো সামান্য টাকা এবং দশম শ্রেণিতে পাওয়া সাধারণ বৃত্তির অর্থ দিয়েই কোনোমতে চলছে তার জীবনযাত্রা।

নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মো. আরাফাত খান বলেন, “পিতা হারানোর পর আমার বড় বোনের যে আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পোশাক শ্রমিকের কাজ করে তিনি আমাকে যেভাবে আগলে রেখেছেন, আজকের এই সাফল্য কেবল তারই। আমার লক্ষ্য হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং পড়ালেখা শেষ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া।”

উপজেলায় একমাত্র এ প্লাস পাওয়া এই মেধাবী তরুণের সাফল্যে গর্বিত এলাকাবাসী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে আর্থিক অনটন ও অভাবের কারণে আরাফাতের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন যেন থমকে না যায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।