সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সিরাজগঞ্জসহ ৩ জেলার ৬৫ জন চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  স্টাফ রিপোর্টার,সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জসহ ৩ জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ আত্নসমর্পণে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে এসআরবি-১২’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের উপস্থিতিতে রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ জন চরমপস্থি এ আত্মসমর্পণ করেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সমাজে ভুল বুঝে যারা উগ্রবাদী ও চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, তারা ভুল বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ করছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে কেউ পার পাবে না।

আত্মসমর্পণকারীদেরস্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী আর্থিক অনুদান দিয়েছেন এবং সরকার আইনি সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ব্যবস্থা করবে। এ অনুষ্ঠানে এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের এমপি আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবির  মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ ও রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান প্রমূখ। অনেক আত্মসমর্পণকারী সদস্য বলেন, সরকার আমাদের সঠিক পথে আসার সুযোগ দিয়েছেন। এজন্য অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরছি। সরকার এমন সুযোগ দেয়ায় আমরা এখন খুশি। ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে বছরের পর বছর পার করেছি। কিন্তু ভাগ্য উন্নয়নে সফলতা বলতে কিছু পাইনি। বরং পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে জীবনযাপন কেটেছে। এসআরবি’র সদস্যদের পরামর্শে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছি। এখন সমাজে বসবাস করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাকি জীবন পার করতে চাই। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে চরমপন্থি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন এবং ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন ও ২০২৩ সালের ২১ মে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে ৭ জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।