এইচএসসি ও সমমানের পরিক্ষায় সিরাজগঞ্জের ১১ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য!
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে সিরাজগঞ্জের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। শূন্য পাসের এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি মাদরাসা ও ছয়টি কলেজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ফলাফল নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, এবার সিরাজগঞ্জের ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৭ হাজার ৬৯১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৪৪৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৭ হাজার ২৪৩ জন। এইচএসসি ও সমমান মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩১ জন শিক্ষার্থী।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা পাঁচটি মাদরাসা হলো শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদরাসা, আমশড়া ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসা, তেলিজানা আলিম মাদরাসা, দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা ও চন্দ্রগাতি আলিম মাদরাসা। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যথাক্রমে ৮, ২১, ১৫, ১৪ ও ১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এ ছাড়া ছয়টি কলেজের মধ্যে ছাতিয়ানতলী মোরগ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে ৩ জন, এসবি রেলওয়ে কলোনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন, লক্ষীপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৫ জন, জহির উদ্দিন কলেজ থেকে ১৮ জন, ছোনগাছা মহিলা কলেজ থেকে ১৪ জন এবং রানীর হাট কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শফিকুল ইসলাম আরও জানান, শূন্য ফলাফলের এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার বলেন, জেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কেউ পাস না করার বিষয়টি হতাশাজনক ও দুঃখজনক। এসব প্রতিষ্ঠানে শিগগিরই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ইতিমধ্যে শূন্য ফলাফলের ১১টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
