ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েন ও ফ্ল্যাট ব্যবসার নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েন ও ফ্ল্যাট ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসমাইল হোসেন ও গফফার হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন লাভজনক প্যাকেজের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহের পর আত্মগোপনে চলে যান তারা।

এ ঘটনায় করা মামলায় ইসমাইল হোসেনের সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, ইসমাইল হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের শান্তিনগর-মিলননগর মহল্লার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি ভূল্লী উপজেলার শুখানপুকুরি ইউনিয়নে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘টাকার গাছ ইসমাইল’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার সাজা এবং অন্য একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

অপরদিকে, গফফার হোসেনের আদি বাড়ি কুড়িগ্রামে। তার বাবা একটি সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক। বাবার চাকরির সুবাদে গফফার ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের গোয়ালপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের দিকে কারও কাছে কয়েন, আবার কারও কাছে ফ্ল্যাট ব্যবসাসহ বিভিন্ন লাভজনক প্যাকেজের কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন ইসমাইল ও গফফার। পরে আসল টাকা ও লাভের অংশ ফেরত না দিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান। ভুক্তভোগীরা জানান, কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, কেউ ব্যাংকঋণ করে, আবার কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করে তাদের টাকা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শাম্মী আক্তার জানান, তার স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার শ্বশুর জমি বিক্রি করেছেন—এ বিষয়টি জানতে পেরে ইসমাইল প্রায়ই তার স্বামীকে ডেকে নিতেন। বিভিন্ন কথা বলে তার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেন ইসমাইল। কিন্তু সেই টাকা আজও ফেরত পাননি। টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান শাম্মী। তার দাবি, ওই মামলায় ইসমাইল সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান বলেন, ইসমাইল একজন ভণ্ড প্রতারক। দায়ের করা মামলায় ইসমাইল হোসেন কারাগারে গেলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও করেন তারা। এ ঘটনায় পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

ভূল্লী উপজেলার জাটিভাঙ্গা বাজারে কথা হয় আলামিন ইসলাম বাবুর সঙ্গে। তিনি জানান, ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরাও এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একসময় এলাকার মানুষ ইসমাইলকে ‘টাকার গাছ ইসমাইল’ নামে চিনতেন। তিনি এলাকার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আলামিন। তার আশঙ্কা, ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

আউলিয়াপুরে ইসমাইলের বোন ও বোনজামাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ইসমাইল শুধু নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, পুরো পরিবারকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। ইসমাইলকে টাকা দিতে বাড়ির সোনার গয়নাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করেছিলেন তারা। কিন্তু সেই টাকা আজও ফেরত পাননি। এতে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ইসমাইলের বোন।

এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও টাকাপয়সা লুটপাট করা হয়েছে। প্রতিপক্ষরা তাকে এলাকাছাড়া করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইসমাইল আরও জানান, তিনি টাকাগুলো গফফারকে দিয়েছেন। কিন্তু গফফারের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না। অপরদিকে, গফফারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খোদাদাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আসামিরা এলাকার বাইরে অবস্থান করায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।