পুঠিয়ায় ১৪ ইটভাটার মধ্যে অনুমোদন আছে মাত্র পাঁচটির

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ইটভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর জোরালো প্রস্তুতি চলছে। উপজেলায় থাকা ১৪টি ইটভাটার মধ্যে পাঁচটির জেলা প্রশাসকের অনুমোদন রয়েছে। তিনটি ভাটা চলতি মৌসুমে বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। বাকি ভাটাগুলো অনুমোদন ছাড়াই চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত, সেই জেলার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত করতে পারবেন না। তবে এ আইনের তোয়াক্কা না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর পুঠিয়ায় কয়েকটি ইটভাটা চলছে। মালিকেরা প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা মুনাফা করলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। আসন্ন মৌসুমেও এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর জোরালো প্রস্তুতি চলছে।

অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অনুমোদনহীন ইটভাটাগুলো।

জানা গেছে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় মোট ১৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন রয়েছে মেঘনা-১ ও ২, সুকদেবপুর যমুনা ব্রিকস, মেল্লাপাড়া জগপাড়া মদিনা ব্রিকস এবং মেল্লাপাড়া দোয়েল ব্রিকসের।

অন্যদিকে অনুমোদনহীন ভাটাগুলোর মধ্যে রয়েছে পুঠিয়ার বারইপাড়া এমএসবি, সদরের এএসএস, পশ্চিমভাগ এমআরএফ ব্রিকস, লেপপাড়ায় ছালাম মন্ডলের ভাটা, তাহেরপুর জেকে ব্রিকস ও তাহেরপুর হক ব্রিকস। চলতি মৌসুমে মেঘনা-৩, বানেশ্বর দিঘলকান্দি সুপার ব্রিকস এবং দনোকুড়ি আতাউরের ভাটা বন্ধ থাকার কথা রয়েছে।

পুঠিয়ার বারইপাড়া এমএসবি ভাটা এবং পশ্চিমভাগ বাজারের পাশে গ্রাম ও ফসলি জমির মধ্যে স্থাপিত এমআরএফসহ কয়েকটি ভাটায় ইট তৈরির জোর প্রস্তুতি চলছে। শ্রমিকেরা দিনরাত কাজ করছেন মাঠ তৈরির জন্য। চলতি নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি এসব ভাটা চালু করার কথা রয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরুর সময় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মণ গাছের খড়ি ব্যবহার করা হয়। অনেক ভাটায় ধীরে ধীরে খড়ি বা গাছ নেওয়া শুরু হয়েছে।

ইটভাটার কালো ধোঁয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান আলী মোল্লা বলেন, ইটভাটায় সৃষ্ট কালো ধোঁয়া সরাসরি মানুষের ফুসফুসে প্রভাব ফেলে। এতে অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া হাঁপানি, কাশি, সিওপিডি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভবতী নারীদের সন্তান জন্মদানে সমস্যা এবং গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পুঠিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, উপজেলায় ১৪টি ইটভাটা রয়েছে। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় চারটি ভাটা বন্ধ থাকবে বলে শুনেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। অন্যরা অনুমোদনের চেষ্টা করছেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন জানান, পুঠিয়া উপজেলায় মোট ১৪টি ইটভাটার মধ্যে ছয়টির পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ইটভাটার মালিকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নোটিশের মাধ্যমেও তাদের অবগত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার বাইরে গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।