জিটিসির হাত ধরে মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২০:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে মাসিক পাথর উত্তোলনের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। গত অক্টোবর মাসে দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পাথর উত্তোলন করে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

খনিসূত্রে জানা গেছে, মধ্যপাড়া পাথর খনির পরিচালনা, উৎপাদন ও উন্নয়নে জিটিসির সঙ্গে দ্বিতীয় দফা চুক্তির পর থেকেই প্রতি মাসে রেকর্ড পরিমাণ পাথর উত্তোলন হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবর মাসে (ছুটির দিন ব্যতীত) এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। দৈনিক গড়ে পাথর উত্তোলনের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দিকনির্দেশনা এবং এ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের সহযোগিতায় খনির উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন পরিচালনায় নিয়োজিত বিদেশি প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রতি মাসে রেকর্ড পরিমাণ পাথর উত্তোলনের ধারা অব্যাহত রেখেছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। শুরুর দিকে দৈনিক পাথর উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন। তবে জিটিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমানে খনিতে মাসিক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাথর উত্তোলন হচ্ছে এবং একের পর এক নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

খনিসূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পাথর উত্তোলনের মাসিক রেকর্ড বৃদ্ধির ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমানে খনির বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আকারের প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পাথর মজুদ রয়েছে।

খনির উন্নয়ন ও উৎপাদনে রেকর্ডের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার এবং খনিসংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন খনি শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) মাধ্যমে মধ্যপাড়া পাথর খনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।