দেলদুয়ারে সেতুর অপেক্ষায় তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২০ | অনলাইন সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার ও পাথরাইলের টেঘুরি এলাকার পরেশ সাধুর দহের ওপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। ফলে প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাদতলা থেকে টেঘুরি সড়কের আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল—এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে পরেশ সাধুর দহ অবস্থিত। দহের দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলেও এর ওপর কোনো সেতু না থাকায় সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে গাদতলা থেকে টেঘুরি পর্যন্ত নির্মিত পাকা সড়কটি স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা থেকে টেঘুরি পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহের ওপর সেতু না থাকায় ওই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় সেতু নির্মাণের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরে যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় অনেকটাই কমে আসত।
নান্দুরিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা থেকে টেঘুরি সড়কটি পাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহের ওপর সেতু না থাকায় এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। একান্ত প্রয়োজনে কিছু মানুষ পায়ে হেঁটে এ পথে চলাচল করেন। এ চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া ও মুকুল হোসেন জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে এ স্থানে সেতু নির্মাণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয় না। তাদের অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল যেতে হয়। এ বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
