রংপুর রেঞ্জে অক্টোবরে ১ হাজার ৬৭৭ মামলা, নিহত ৫৫
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১২ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুর রেঞ্জের অক্টোবর ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, বিপিএম।
সভায় রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন আটটি জেলার সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি, মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
অক্টোবর মাসের সার্বিক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশকে রংপুর রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের পক্ষে ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন।
মামলা ও অপরাধ পরিস্থিতি
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে রংপুর রেঞ্জে মোট ১ হাজার ৬৭৭টি মামলা রুজু এবং ১ হাজার ৬৫২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সময়ে ২৪টি খুন, একটি ডাকাতি, তিনটি দস্যুতা, ১৩টি অপহরণ, ধর্ষণ ছাড়া নারী নির্যাতনের ১৬১টি, ধর্ষণ ছাড়া শিশু নির্যাতনের আটটি, ৬৪টি ধর্ষণ, চারটি গণধর্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের ৯৯টি চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদকদ্রব্য উদ্ধার-সংক্রান্ত ৫৬৭টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৭২৫টি মামলা রুজু হয়েছে।
মামলার তদন্তের বিষয়ে ডিআইজি জেলা পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদার সক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। মামলার প্রকৃতি ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রযোজ্য আইন অনুসরণে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনা ও সড়ক নিরাপত্তা
আলোচ্য মাসে সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মোট ৪৭টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের ৩১টি এবং হাইওয়ে পুলিশের ১৬টি মামলা রয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় মোট ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বোচ্চ ১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন বড়দরগাহ হাইওয়ে থানায় আটটি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ৩২টি যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আসামির সংখ্যা ৪০ জন। তাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩৩ জন পলাতক রয়েছেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল
অক্টোবর মাসের শুরুতে রংপুর রেঞ্জে মোট ৩৪ হাজার ৪০৬টি জিআর ও সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানা অনিষ্পন্ন ছিল। আলোচ্য মাসে ৫ হাজার ৬৩৬টি পরোয়ানা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৯৫টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি হওয়ায় মাস শেষে অনিষ্পন্ন পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৪৭টিতে।
ট্রাফিক আইন প্রয়োগ
অক্টোবর মাসে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৮৯৭টি প্রসিকিউশন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জরিমানার মোট পরিমাণ ৯১ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৫ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে যানবাহন আটক-সংক্রান্ত কার্যক্রমের তথ্যও সভায় উপস্থাপন করা হয়।
হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার
আলোচ্য মাসে হারানো মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত ১ হাজার ৭৫১টি জিডি ও মামলার বিপরীতে ৩৪৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে রংপুর রেঞ্জের সব ইউনিটের সমন্বয়ে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন ডিআইজি।
এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসিক কম্পিউটার কোর্স এবং বেসিক ইংলিশ কোর্স চালুর বিষয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণকে পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদানে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আরআরএফের কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহ মমতাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি (ঝজট) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ও সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত তানভীর হায়দার চৌধুরী, পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড অপারেশনস) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বি. এম. আশরাফ উল্যাহ তাহের।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম, রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, আইইএসটিসি গাইবান্ধার কমান্ড্যান্ট (এসপি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন, আইইএসটিসি লালমনিরহাটের কমান্ড্যান্ট (এসপি) মো. আকবর আলী মুন্সী, আইইএসটিসি দিনাজপুরের কমান্ড্যান্ট (এসপি) আবুল কালেম মো. বাকী বিল্লাহ, আইইএসটিসি ঠাকুরগাঁওয়ের কমান্ড্যান্ট (এসপি) মোছা. শামীমা পারভীন, আইইএসটিসি নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি, নীলফামারী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর রহমান এবং ডিআইজির স্টাফ অফিসার এএসপি মো. মনজুরুল আলম।
