মুন্সীগঞ্জে অনিয়মের অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে বন্ধ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেবার মান নিশ্চিত করা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধে মাঠে নেমেছেন তিনি।

বুধবার দুপুরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হাসপাতালের আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তদারকি করা হয়।

অভিযানকালে ‘নিউ মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২’ পরিদর্শন করে নানা অনিয়মের সত্যতা পান সিভিল সার্জন। তিনি জানান, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছিল এবং সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

উল্টো অভিযোগ রয়েছে, জেনারেল হাসপাতালের কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে রোগীদের প্রভাবিত করে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে।

অভিযানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা যায়, কোনো অনুমোদিত টেকনোলজিস্ট ছাড়াই সেখানে এক্স-রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর আগে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও নির্দেশনা না মানায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন সিভিল সার্জন। বৈধ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না করা পর্যন্ত এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।

পরবর্তীতে আশপাশের আরও কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করা হয়। এ সময় একটি ডেন্টাল চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, বিডিএস ডিগ্রিধারী বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই একজন টেকনোলজিস্ট নিজেই রোগীদের রুট ক্যানেলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা দিচ্ছেন। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই চিকিৎসাসেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে সংশোধন না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।