মুন্সীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে কর্মী নিহত
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গভীর রাতে মাজারের ভেতরে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাহেদ বেপারীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা মরদেহ মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আসবেন।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগম জানান, প্রতিপক্ষ ফরিদ হোসেন ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে এলাকায় নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
তিনি জানান, জাহেদ ও ফরিদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যের সমর্থক ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারে ওরস আয়োজন নিয়েও বিরোধ থাকতে পারে। মাজারকেন্দ্রিক বিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী বোনসহ তিন বোনের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে হত্যা করা হয়েছে। তিন বোন চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করল। আমার প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা তাকিয়ে বাবার হত্যাকাণ্ড দেখেছে। আমরা এসব স্মৃতি ভুলে যাব কীভাবে? আমরা তো পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন। তিনি জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদ বেপারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগেও হত্যা ও মাদক মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। পূর্ববিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
