আট মাস পর সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি

নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টার উত্তাল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায় এমভি বার আউলিয়া নামের জাহাজটি।
তবে মৌসুমের প্রথম দিনেই জাহাজটিতে কতজন পর্যটক বা যাত্রী সেন্টমার্টিনে গেছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও সরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে যাত্রীর সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ৮৫০ জন ধারণক্ষমতার জাহাজটিতে হাজারের অধিক পর্যটক গেছেন। এ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি ও দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যারা টিকিট কেটেছেন, তারা সবাই গেছেন।
ট্যুরিজম বোর্ডের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন জানান, প্রথম দিন ৮৮৬ জন যাত্রী টিকিট কেটে ভ্রমণ পাস নিয়েছেন।
অন্যদিকে, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানিয়েছেন, প্রথম দিন সেন্টমার্টিনে গেছেন ৮৩৭ জন।
এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক পরিদর্শক তোফাজ্জেল হোসেন জানান, প্রথম দিন সেন্টমার্টিনে গেছেন ৮৩০ জন।
এদিকে, জাহাজটিতে বিনা টিকিটে অন্তত ২০ জন গণমাধ্যমকর্মী এবং দায়িত্বে থাকা ট্যুরিস্ট পরিদর্শকসহ অর্ধশত সরকারি কর্মকর্তা সেন্টমার্টিনে গেছেন বলে স্বীকার করেছেন এমভি বার আউলিয়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
প্রায় ছয় ঘণ্টার উত্তাল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে জাহাজটি সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়। পর্যটকদের বরণ করতে আগে থেকেই জেটি ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন দ্বীপবাসী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যটকেরা একে একে জাহাজ থেকে জেটিতে নামলে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের সার্বিক বিষয় নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। আশা করছি, এই যাত্রার মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে তারা জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। জাহাজ তিনটির মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি বার আউলিয়া বিকেল আড়াইটায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল সোয়া ৭টায় যাত্রা করে বেলা সোয়া ২টায় ফিরবে। আর এমভি টেকনাফ সকাল সোয়া ৮টায় যাত্রা করে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফিরবে।
