কাউখালীর ৫ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকট, ব্যাহত সেবা
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় তীব্র জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর সেবা কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। কোনো কোনো কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে জনবলশূন্য থাকায় কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আশির দশকে এসব কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়া এবং একের পর এক পদ শূন্য হয়ে পড়ায় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকার কথা। পদগুলো হলো—মেডিকেল অফিসার একজন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) একজন, ফার্মাসিস্ট একজন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) একজন, আয়া একজন এবং নিরাপত্তাকর্মী একজন। অথচ কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে জনবল কাঠামোর চিত্র অত্যন্ত নাজুক।
উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে জানা গেছে, ১ নম্বর সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বর্তমানে সম্পূর্ণ জনবলশূন্য। ফলে সেখানে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
৫ নম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন একমাত্র নিরাপত্তাকর্মী তপন চক্রবর্তী। তিনিও চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন। এরপর কেন্দ্রটি পুরোপুরি জনবলশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২ নম্বর আমরাজুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একজন নিরাপত্তাকর্মী কর্মরত রয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনিও অবসরে যাবেন। এ কেন্দ্রেও অন্য কোনো পদে জনবল নেই।
৪ নম্বর চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জয়নব বেগম একাই দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, কাউখালী সদর ইউনিয়নের কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের একটি কক্ষে। সেখানে ববিতা বড়াল নামে মাত্র একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে কোনোমতে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে এসব কেন্দ্রে সরকারি সরবরাহের পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ কেন্দ্রই বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। ফলে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে মানুষকে উপজেলা কিংবা জেলা পর্যায়ে ছুটতে হচ্ছে।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা জানান, একসময় এসব কেন্দ্র গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক পরামর্শ পাওয়ার অন্যতম ভরসা ছিল। কিন্তু বর্তমানে জনবল ও ওষুধের অভাবে সেই সেবা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “জনবল সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সচল করা জরুরি। তারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে দক্ষ জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর নিয়মিত সরবরাহ এবং কেন্দ্রগুলোতে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
