দিনাজপুরে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক-শ্রমিক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:১০ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

অগ্রহায়ণ মাস শুরু না হতেই দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে নতুন ধানের ভাত খেয়ে নবান্ন উৎসব পালনের আয়োজন চলছে। সব মিলিয়ে দিনাজপুরের গ্রামীণ জনপদে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
আনন্দের এই মুহূর্তে মেয়ের জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের আতিথেয়তার জন্য অনেকেই বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। কৃষকের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন ধানের সুবাস। উঠানে উঠানে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে পিঠা-পুলি খাওয়ার আয়োজন চলছে। পাশাপাশি অনেক কৃষক ধান মাড়াই করে তা হাটে বিক্রির জন্য ছুটছেন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, এবার জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হেক্টর জমিতে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যথাযথ নজরদারি ও দিকনির্দেশনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ার ধান কাটা শ্রমিক দলের দলনেতা সুকারু হোসেন বলেন, প্রতি বিঘা (৫০ শতাংশ) জমির আমন ধান কাটতে কৃষকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তার দলের ১৪ জন শ্রমিক মিলে ক্ষেত থেকে ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। গত বছর এ কাজে মজুরি কম থাকলেও বর্তমানে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কৃষক সফিক জানান, গুটি স্বর্ণা ও স্বর্ণা-৫ জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধান কাটা শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে মাড়াই করা ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে হাটবাজারে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধান ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নতুন ধান ঘরে তোলার পর নবান্ন উৎসব পালন করে সেই চালের ভাত মুখে তোলেন—এমন রীতিও রয়েছে অনেকের মধ্যে। তাই নতুন ধানের আগমনে গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
