সিরাজগঞ্জে আটার রুটি বিক্রি স্বচ্ছলতা ফিরছে অনেকের
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক সলংগা হাটে লাল আটার স্বাদের রুটি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন মিন্টু মোল্লা (৩৮)। এ উপার্জনে তার ছেলে মেয়ে স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছে। বাবার রুটির টুংগি দোকানে ৩ কর্মচারীসহ সহযোগীতা করছে তার ছেলে কলেজ ছাত্র। শুধু মিন্টু মোল্লায় নয়, অনেকে রুটি বিক্রি করেও স্বচ্ছলতা ফিরছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধান কেনা বেচার অন্যতম এই অঞ্চলের সলংগা হাটের পশ্চিম ও দক্ষিণপাড়ে সারি সারি ১৬/১৭ টি টুংগি ঘর স্থাপন করা হয়েছে। এসব টুংগি ঘর দোকানে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের লোকজন লাল আটার রুটি বিক্রি করছে দীর্ঘদিন ধরে। এ রুটির সাথে ফ্রি দিচ্ছে শুকনা মরিচের ভর্তা, আলু ভর্তা, মসুর ডাল ও বেগুন ভর্তা। তবে ২০ টাকায় ডিম ভাজিও দেয়া হয়। এসব লাল আটার রুটি বিক্রির দোকানে হাটের দিন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতিদিন স্থানীয় লোকজনও এ লাল আটার স্বাদের রুটি খান এবং লাল আটার স্বাদের রুটির ঘর হিসেবে এলাকায় পরিচিত। স্থানীয়রা বলছেন, ইতিমধ্যেই এ রুটি বিক্রি করে অনেকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে এবং তাদের অনেকের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়াও করছে। এ স্বাদের লাল আটার রুটি বিক্রি করে তারা সুনামও অর্জন করেছেন।
প্রায় ৫ বছর ধরে এ লাল আটার রুটি বিক্রি করছেন ওই সলংগা হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে সলংগা ভরমোহনি গ্রামের দরিদ্র মিন্টু মোল্লা। এ লাল আটার রুটি বিক্রি করে তিনি সংসার চালাচ্ছেন। এ প্রতিবেদকের এ প্রশ্নাত্তোরে তার ছেলে স্থানীয় কলেজ ছাত্র জিয়া মোল্লা জানায়, বাবার রুটির দোকানে ৩ জন কর্মচারী গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। এজন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি দোকানে সহযোগীতা করে থাকি প্রায় প্রতিদিন এবং আরো ২ ভাই স্কুলে পড়াশোনা করছে। বাবার এ উপার্জনের সংসার চালানোর পাশাপাশি আমরা লেখাপড়া করছি। এ স্বাদের লাল রুটির চাহিদা বেশি এবং সব শ্রেণির মানুষই এ রুটি খেয়ে থাকেন। প্রতি পিচ রুটি ১৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ফ্রিতে মরিচ ভর্তা ও আলু ভর্তার চাহিদা বেশি এবং প্রতিজন গ্রাহক ৪ থেকে ৫টি করে রুটি খেয়ে থাকেন। প্রতিদিন এ লাল রুটি প্রায় ৭/৮ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। তবে হাটের দিনই এ স্বাদের রুটি বেশি বিক্রি হয়। কর্মচারীসহ প্রতিদিনের খরচ বাদে লাভ থাকে ১৫’শ থেকে ১৬’শ টাকা। এদিকে এ লাল আটার রুটির চাহিদা নিয়ে এলাকায় কথা উঠেছে, চলো যায় সলংগার হাটে খেয়ে আসি স্বাদের লাল রুটি।
