ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হকের ২৩তম স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২১, ১৯:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, যার জন্ম না হলে স্বাধীন দেশ পেতাম না, সেই মহান নেতা, মহান শিক্ষক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সহযোগী সহচর ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, রাষ্টদূত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হক। এছাড়াও তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগ পরিবারকে ২০ বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকা পালন করেছেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন শামসুল হক। ওই হলটি ছিল ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্র বিন্দু। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবং অন্যতম মুখ্য প্রধান ভুমিকা পালন করেন। এ কারণে তিনি গ্রেপ্তার হন।
তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঠেঙ্গারবান্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে আাজ বুধবার দিনব্যাপী সাবেক মন্ত্রী, রাষ্টদূত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হকের ২৩তম স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুরাদ কবীরের সভাপত্বিত্বে ও সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেলের সঞ্চালনায় স্বরণসভায় বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাড. আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ (এমপি), জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সাত্তার, সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গণি, শ্রীপুর উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রধান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল হাদী শামীম, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. আমানত উল্লাহ খান, গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিনা পারভীন, মরহুম শামসুল হকের ছেলে মাসুদ কবীর প্রমুখ।
তিনি আরোও বলেন, এদেশের বহু আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত শামসুল হক। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রারাগান্ধীর সাথে আলোচনার মাধ্যম ছিলেন এবং মধ্যস্ততাকারী কুটননৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের সেনাবাহিনী এদেশে এসেছিল মিত্রবাহিনী হিসেবে। চুক্তি চুরান্ত করা আগে প্রাথমিক আলোচনার দায়িত্বে ছিলেন শামসুল হক।
১৯৭২ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠনের সময় তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঠেঙ্গারবান্দ ছিলেন। সে সময় তিনি অনুপন্থিত থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাঠান এবং সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে মন্ত্রীত্ব দিয়ে শপত করান।
মন্ত্রী বলেন, শামসুল হক সাহেব দুরদর্শী, দক্ষ, শান্তি প্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয় সম্পদ। তাঁকে নিয়ে জাতি গর্ব ও অহংকার করতে পারে। তিনি কখনো মাথা নত করেন নাই, লুটপাত করেন নাই, আমানত-খেয়ানত করেন নাই।
