ট্রাইব্যুনালকে চিফ প্রসিকিউটর
জিয়াউলের গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

শতাধিক মানুষকে গুম-খুনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলকে এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এদিন জিয়াউলের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তারা প্রসিকিউশনের আনা ৩টি অভিযোগের বিরোধিতা করে অব্যাহতির আবেদন করেন তারা। পাশাপাশি জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনো তথ্যপ্রমাণ আনতে পারেনি বলেও দাবি করেন তারা।
আসামিপক্ষের এসব কথার জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর। এ সময় এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দেয়া দুজনের সাক্ষ্য তুলে ধরেন। আগামীতে এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন তিনি। পরে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি ঠিক করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম-খুনের দায়ে ৩টি অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর।
জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৩টি অভিযোগের প্রথমটি হলো— ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন জনকে হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল— ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খাল ঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া হয়।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের হত্যা করা হয়।
এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
