মানবতাবিরোধী অপরাধ

কাদের-পরশ-সাদ্দামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আজ।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এরআগে আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

এরপরও তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি বা আসামিরা হাজিরও হয়নি। ফলে তাদের পলাতক আসামি হিসেবে বিবেচনা করে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে (স্টেড ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানিতে আদালত এই নির্দেশ দেন। এখন আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার হতে আইনে কোনো বাধা নেই।

প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশনা এবং বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাসিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, এবং ছাত্রলীগের সদস্যরা আক্রমণে অংশগ্রহণ করে এবং ছাত্র আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অঙ্গহানি করেছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ওবায়দুল কাদেরকে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জন্য এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরাও তাদের নিজ নিজ সংগঠনের শীর্ষ নেতার দায় বহন করে এই মামলায় আসামি হয়েছেন।