আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামীপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারিক প্যানেলের সদস্য মো. মঞ্জুরুল বাছিদ নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন (আর্গুমেন্ট) করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়। অন্যদিকে, আসামীদের খালাস চেয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। অন্যদিকে, বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী সুজাদ মিয়া।
এর আগে, গত বছরের ৩০ জুন বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এ মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই দৃশ্যের ভিডিওটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে। এরই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
