জঙ্গি সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যা
হাসিনা-কামালসহ ৬ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর মিরপুরের জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যা করার মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ছয় পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণ করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে ৮ মার্চ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আজ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
এ মামলায় মোট আসামি ৮ জন। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ ছিল। কিন্তু দুজন গ্রেপ্তার থাকায় বাকি ৬ পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত।
গ্রেপ্তাররা হলেন– সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। পলাতক আসামিরা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি আট আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি বাড়িতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) একটি বিশেষ অভিযান চালায়, যার নাম রাখা হয়েছিল ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’। ওই অভিযানে ৯ জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাদের তখনকার সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্ট ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের আলোকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘জঙ্গি নাটক’ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
