অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে গুম আইন প্রণয়ন করা হবে : আইনমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখানে অনেক বিষয় চিন্তা ভাবনা করার ব্যাপার রয়েছে। হুট করে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না, যেটা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাকে লাভবান করবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ও যথেষ্ট আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি। হঠাৎ করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুযায়ী আইন করা হলে, যদি সেটা কাজেই না লাগে এবং অপরাধী যদি পার পেয়ে যায় বা উপকৃত হয়, তবে সে আইনের কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, গুমের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর। এখানে বিবেচনার বহু বিষয় রয়েছে, যা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, তবে আপনারা নিশ্চিত থাকুন, বাংলাদেশে গুম যেন কখনোই ফিরে আসতে না পারে-এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হবে।
সভায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আমার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। আমরা সবসময় ভেবেছি তিনি(ইলিয়াস আলী) ফিরে আসবেন। এটাও চিন্তা করেছিলাম যে, আগস্টের পাঁচ তারিখের পরে হয়ত অন্তত তার একটা খবর আমরা পাব, কিছু অন্তত জানবো, কিন্তু তা হয়নি। যারা গুমের শিকার বা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার চাইতেই আমি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছি। আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে এমন যেন আইন হয়, যাতে ভবিষ্যতে কখনোই দেশে কাইকে গুমের শিকার হতে না হয়।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার সংগঠন 'মায়ের ডাক' এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, বিগত সময়ের মানবাধিকার কমিশনগুলো এ বিষয়কে এড়িয়ে গেছে। তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা কখনও দেখতে পাইনি।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, আইনজীবী, আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
আবা/এসআর/২৬
