৫ দিনের রিমান্ডে ওসি রাকিবুল

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য বরখাস্ত হওয়া ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আবেদন করলে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।

ওসির অডিও ছড়িয়ে পড়লে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। এরপর কমিটির সদস্যরা তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে একই থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল ও জামিনে শুনানিতে বলেন, মিডিয়ায় এসেছে যে, তাকে সাত দিন ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল। কী অভিযোগে তাকে সাত দিন ডিবি কার্যালয়ে রাখা হলো? কোন আইনে তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। অতিরঞ্জিতভাবে অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এরও সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ নেই।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করবে যে, আমাদের একজন ওসির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; বরং মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে আসামির বিরুদ্ধে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাহিনী সম্পর্কে অবজ্ঞা, বিদ্বেষ, ঘৃণা পোষণ করে জনমনে বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে আসামির বিরুদ্ধে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তে আসামিকে ৭ দিন পুলিশ হেফজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। 

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন রাকিবুল। অডিওতে রাকিবুল সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলতে শোনা যায়।

অডিওতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসলে কিছু হবে না এবং পুলিশ তাকে ঠেকাতে পারবে না।’

গত ১৭ সেপ্টেম্বর অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

 

আবা/এসআর/২৬