গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ২১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার আসামি রাকিবুল ইসলামকে (৩২) রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
গ্রেপ্তার রাকিবুল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। এর আগে, রোববার রাতে রংপুর নগরীর তাজহাট থানার দর্শনা মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিল বেলাল হোসেনের। ভুক্তভোগী ওই নারীর কিছু টাকার প্রয়োজন হওয়ায় বেলাল হোসেনের কাছে ৫ হাজার টাকা ধার চায়। গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বেলাল হোসেন টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে তার বাড়িতে ডাকে। ভুক্তভোগী ওই নারী টাকা ধার নিতে বেলাল হোসেনের বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে দেখা হলে বেলাল হোসেনের কাছে টাকা চান তিনি। টাকা না দিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীকে জোর করে রাস্তার পাশে ভুট্টাক্ষেতে টেনে নিয়ে যায়। এসময় চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা মুখ চেপে ধরে। পরে রাকিবুল ইসলাম ভুক্তভোগী নারীর মুখ চেপে ধরলে বেলাল হোসেন প্রথমে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর রাকিবুল ও অপরজন ছাইয়াকুল পালাক্রমে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ওই নারীকে ভুট্টাখেতে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসা শেষে গত ২২ এপ্রিল ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানায় গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা চতুরতার সঙ্গে আত্মগোপনে ছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর একটি অভিযানিক দল রোববার রাতে রংপুরের দর্শনা মোড় থেকে রকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
