টাকা তুলতে পারছেন পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০১ | অনলাইন সংস্করণ

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক–এর আওতায় আসা পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারছেন। একই সঙ্গে আমানতকারীরা তাদের জমানো অর্থ উত্তোলনও শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শাখায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। এ সময় দেখা যায়, অনেক শাখায় পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামে নতুন ব্যানার ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই টাকা জমা ও উত্তোলন স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় সাধারণ গ্রাহকরা একবারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন পর টাকা তুলতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক আমানতকারী। তারা জানান, অনেক অপেক্ষার পর টাকা তুলতে পেরে ভালো লাগছে। এই অর্থটা আমাদের জন্য খুব জরুরি ছিল।
কত টাকা কীভাবে তোলা যাবে: বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত করা স্কিম অনুযায়ী—
- দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত: যে কোনো সময় একবারে পুরো টাকা তোলা যাবে।
- দুই লাখ টাকার বেশি আমানত: প্রতি তিনমাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে।
বিশেষ বিবেচনায় ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক এবং ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ গুরুতর রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসার প্রয়োজনে সময়সীমার বাইরে গিয়েও টাকা তুলতে পারবেন।
পুরোনো কাগজপত্রই বৈধ: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর নামে ইস্যু করা চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ, ভাউচারসহ সব ব্যাংকিং কাগজপত্র বৈধ থাকবে। নতুন করে কোনো কাগজপত্র পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
আমানত ও ঋণ সুবিধা: নির্ধারিত সময়ের আগে স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না। বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা মিলবে। নতুন আমানতের ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রশাসন ও কর্মচারী: যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা নেই, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ চাকরির শর্ত পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।
উল্লেখ্য, অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে দীর্ঘদিন সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক এসব ব্যাংকে গত ৫ নভেম্বর ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ–২০২৫ অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ খেলাপি।
সারাদেশে এই ব্যাংকের রয়েছে ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ। ব্যয় কমাতে একই এলাকার একাধিক শাখা একীভূত করা হবে এবং ইতোমধ্যে কর্মীদের বেতন-ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
