রমজান সামনে রেখে বাড়তি ছোলা-চিনির দাম, পেঁয়াজ ও ডিমে স্বস্তি

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

রমজান শুরুর বাকি আর মাত্র এক মাস। এরই মধ্যে রমজান ঘিরে বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, সেগুলোর দাম এখনই চড়া। এর মধ্যে ছোলা ও চিনির দাম গত কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ভরা মৌসুমের কারণে পেঁয়াজের দাম কমেছে এবং ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও পাইকারি বাজারে ছোলা ও চিনির দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি চাহিদার সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরেই পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। রামপুরা বাজারের মুদি দোকানি এনামুল হক বলেন, পাইকারি বিক্রেতারা ছোলার দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে, যদিও সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

ছোলার পাশাপাশি চিনির বাজারেও একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বাজারে গত বছরের তুলনায় চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামে স্থিতিশীলতা থাকলেও এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

জানা গেছে, এক মাস আগেও প্যাকেটজাত চিনির দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। বর্তমানে সব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর খোলা চিনি আগে যেখানে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন ১১০ টাকার কমে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।

ক্রেতা আল আমিন বলেন, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, সেগুলোর দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবারই এমনটা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

তবে এ দুই পণ্যের দামে চাপ থাকলেও পেঁয়াজের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। ধারাবাহিকভাবে কমছে দেশি পেঁয়াজের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এবং বাজারে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের বেশিরভাগই দেশি। তবে ভারত থেকে আমদানি করা কিছু পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর সপ্তাহখানেক আগে মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ফার্মের মুরগির ডিমের দাম এখনো বাড়েনি। বেশ কিছুদিন ধরেই ডিমের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজির দাম গত দুই সপ্তাহ বাড়লেও এখন আবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ফুলকপি আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাধাকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং নতুন আলু মান ও বাজারভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে অন্যান্য পণ্যগুলো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।