বাজারে লেবু-শশা-বেগুনে সেঞ্চুরি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া যেন এক অনিবার্য রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বাজারে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম চড়া রয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের চাহিদা বাড়ায় সরবরাহে পরিবর্তন এসেছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, খুচরা বাজারে এখনও বেশ কিছু পণ্যের দাম বেশি।
বাজারের বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহখানেক পর অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে আসতে পারে। তাদের ভাষ্য, রোজার শুরুতে মানুষের কেনাকাটা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। কিছুদিন পর থেকে কেনাকাটা কমে যাবে। অনেক পরিবার ও শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটিতে গ্রামে চলে যেতে শুরু করবে। তখন চাহিদা কমবে।
রোজা শুরুর আগেই লেবু, শশা ও বেগুনের দামে সেঞ্চুরি দেখা গেছে। এসব পণ্যের দাম দুই থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছিল। বাজারে যেসব লেবু সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে পাওয়া যেত, সেই লেবুর দাম উঠেছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালিতে। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।
রোজার মধ্যে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার তিন-চার দিন আগে এ পণ্যের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের মতো শশার কেজিও উঠেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
এক বিক্রেতা বলেন, রোজায় যে হারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই হারে আমদানি হয় না। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মোকামগুলোতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে, রোজার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তবে এ দুই পণ্যের দাম রোজার আগে নির্বাচনের সময় যানবাহন বন্ধ থাকার সময় থেকেই বাড়তে শুরু করে।
এক ক্রেতা বলেন, ইফতারের সময় বেগুন ও লেবুর প্রয়োজন হয়। এরকম কিছু কিছু পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি।
বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, সোনালি মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তদারকি সংস্থার অভিযান ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বাজারে পণ্যের দামে ভোগান্তি আরও কমবে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।
