বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের এ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শোকজ করা তিন কর্মকর্তা হলেন– বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক এবং এসএমএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাবের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক কর্মদিবস পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে এই তিন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের জন্য প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি সর্বদলীয় ঐক্য হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল, হলুদ ও সবুজ এই তিন দল থেকে এই ঐক্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরীকে সমন্বয়ক করা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারির ওই সংবাদ সম্মেলনে তাকে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী– কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন, সভা, সেমিনার, বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার জন্য গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। আবার গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার সুযোগ থাকলেও এভাবে সংবাদ সম্মেলন করা যায় না। অথচ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে একইদিন ডাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়– বিকাশকে তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা করছেন গভর্নর। অবশ্য কর্মকর্তারা যে কাগজ সরবরাহ করেন সেখানে দেখা যায়– ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াসহ ৮টি এজেন্ডার ভিত্তিতে পর্ষদ সভা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের পর ওই দিন টেলিফোনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, নির্বাচনের পর এখন ইচ্ছে করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। পরিচালনা পর্ষদ কি সিদ্ধান্ত নেবে না নেবে এটা পর্ষদে আলোচনার বিষয়। ফলে যেসব কর্মকর্তা এভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন (শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) নেওয়া হবে। আজ সোমবার এ বিষয়ে কোনো পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ ব্যাংকখাত নিয়ে গভর্নরের খেয়ালি বক্তব্য বন্ধ এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
আবা/এসআর/২৫
