‘হরমুজ প্রণালী’ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী’ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। তিনি আরও বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্য রুট হলেও, প্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি আমদানি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সোমবার (২ মার্চ) ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী সম্ভাব্য সামুদ্রিক নৌ চলাচল বিঘ্ন এবং সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিবেশ নিয়ে আলোকপাত করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালীটি বন্ধ থাকে, তবে তা বৈশ্বিক শিপিং ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এখনই অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার সময় নয়, পরিস্থিতি কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। এ সময় জ্বালানি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ভারত ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি নিয়ে বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে এবং ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করে।
মন্ত্রী এ সময় কিছু রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং গত ১৮ মাসে কয়েকটি সীমান্ত হাট ও স্থলবন্দর বন্ধ থাকার বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তবে তিনি জানান, কিছু সীমান্ত বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর চালু রয়েছে।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণ প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদনপত্র পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে জাতিসংঘ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্ত্রী এই বৈঠকটিকে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা নিরসন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: বাসস
