চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে: এডিবি

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন ৪ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। সংস্থাটির মতে, জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমায় ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে গতি ফিরছে, যা অর্থনীতিকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির নিয়মিত প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’-এ বাংলাদেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছিল, তার প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বাংলাদেশে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটি একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। তবে নতুন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার ও বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

তবে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। সংস্থাটির ধারণা, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ সংকটের কারণে এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও আগামী অর্থবছরে এটি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমদানি বাড়া এবং বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের ০ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

এছাড়া সরকারের নীতিগত সহায়তা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে সেবা খাতও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।