দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

চলতি এপ্রিল ও আগামী মে মাসে মোট ১৬ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

সূত্রগুলো জানায়, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও সংগ্রহের প্রস্তুতি থাকায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন-এর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪টি দেশে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি কার্গো ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকি ৪টির ক্রয়প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পেট্রোবাংলার অধীনস্থ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের ৯ কার্গোর মধ্যে ৪টি ইতোমধ্যে এসেছে।

এসব কার্গো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি ৫ কার্গোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি করে এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি আসার কথা রয়েছে।

এছাড়া মে মাসের জন্য ৭টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি স্পট বাজার থেকে এবং ২টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন সীমিত থাকায় সরকার আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। জ্বালানি ঘাটতি এড়াতে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এই আমদানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এলএনজির দাম বাড়ছে, ফলে আমদানিনির্ভর দেশগুলো অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। দাম কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে, অন্যথায় চাপ অব্যাহত থাকবে।

বিকল্প উৎস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানি বাড়ানো যেতে পারে। ভৌগোলিক সুবিধা ও ভালো সম্পর্কের কারণে এসব দেশ থেকে তুলনামূলক কম খরচে গ্যাস সংগ্রহ সম্ভব।

তিনি আরও জানান, এসব দেশ থেকে এলএনজি আমদানিতে বাংলাদেশের বড় কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক বাধা নেই। সঠিকভাবে এই উৎসগুলো কাজে লাগানো গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ সহজ হবে।