বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৫:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এবং এতে উভয়ের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে পারস্পরিক লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে তা ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। বরং এটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া একটি তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোনো খাতেই অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নেই এবং ডাম্পিংয়ের অভিযোগও ভিত্তিহীন। অধিকাংশ পণ্যই আমদানি করা হয়। আর যে পণ্যগুলো রপ্তানি করা হয়—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—তা কঠোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চুক্তি বাতিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হয়। কোনো ধারায় দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে সেটি সংশোধনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। তিনি এটিকে স্বয়ং সংশোধনযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। তাই এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।