রাজধানীতে সবজির কেজি ৮০-১২০ টাকা, চাপে ক্রেতারা

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ১২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজি, ডিম ও মসলার বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের প্রভাবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুম শেষ হওয়ায় বিভিন্ন সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজি। বর্তমানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের তালিকায় রয়েছে কাঁকরোল, শসা ও বেগুন। প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১০০ টাকায়। এছাড়া পটোল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, ধুন্দল ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রতিটি লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। বেশ কিছু মৌসুমি সবজির সময় শেষ হওয়ায় বাজারে সংকট আরও বেড়েছে।

তাদের দাবি, দাম বাড়ায় ক্রেতাদের কেনার পরিমাণও কমে গেছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা এক কেজি সবজি কিনতেন, এখন অনেকেই আধা কেজি করে কিনছেন। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরাও আগের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি তুলছেন।

এদিকে ডিমের বাজারেও বেড়েছে দাম। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে।

মুরগির বাজারে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে অন্য জাতের মুরগির দাম। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৭৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের অন্যান্য বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি চিনি ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খোলা আটা ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। প্রতি কেজি এলাচ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।

ক্রেতারা বলছেন, আয় না বাড়লেও প্রতিদিন কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।