যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১৬:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। টানা তিন দিনের মূল্যবৃদ্ধির পর এখন বিনিয়োগকারীদের নজর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিকে।

বুধবার (১৩ মে) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৯ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৫৮ ডলারে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয় ১০১ দশমিক ৭৯ ডলার।

গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে বা তার ওপরে রয়েছে। যুদ্ধের জেরে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে।

বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিটি নতুন তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ফলে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কিংবা জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি হুমকির মুখে পড়লে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর তেলের দাম কমার প্রবণতা কিছুটা থেমে যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মোট চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এপ্রিল মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে ৮৮ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

এদিকে মঙ্গলবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার আশাও কমে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। যদিও শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে এবং তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও বর্তমানে চীনই ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সময় দীর্ঘ হওয়া এবং ইতোমধ্যে ১ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। সূত্র: রয়টার্স