বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৭ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে প্রায় চার বছর পর আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সোমবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে।

এর আগে গত বুধবার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী– বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। গত বুধবার এই রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

গত ১৪ জুন এডিবির ১০০ কোটি ডলারের ঋণ ছাড় হওয়ার পর বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থপাচার, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় গ্রস রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে।