আবারও বিশ্ব বাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবরও দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৭২ ডলার বা ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪৩ ডলার বা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৬৯ ডলারে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানের অবস্থান কঠোর হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বুধবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য এসব গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সম্ভাব্য একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে থাকা জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির দিকে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। রয়টার্সকে দেওয়া এক ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা উপসাগরীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

সপ্তাহের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। তবে সৌদি আরব থেকে এশিয়ায় তেল পরিবহনের বিকল্প পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বুধবার পাঁচটি এবং মঙ্গলবার ৩৯টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা ১৯ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী দক্ষিণ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে।

ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুব্রো সরকার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালির অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এখনো নেই। ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তেলের দামের নিম্নসীমা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের আশপাশে থাকতে পারে।

এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। বুধবার এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস (ওপেক+) অক্টোবর থেকে টানা তিন মাস তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখতে পারে বলেও রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর পর নির্ধারিত হারে উৎপাদন পুনরুদ্ধার শেষ হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।