উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান-এমডিসহ চার পরিচালকের পদত্যাগ
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০৫ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

নানা অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতিতে জাঁতাকলে পিষ্ট উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় একযোগে পদত্যাগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের সিএফওর সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
পদত্যাগ করা চার কর্মকর্তা হলেন—উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক এমডি মুখতার হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির এমডি ওয়ালি উল্লাহ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নিয়ামুল কবির এবং আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক রফিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে চার স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মাহবুব আলমকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের পর্ষদ গঠন করেছিল। হঠাৎ এই চারজনের বিদায়ে পর্ষদে এখন প্রতিনিধি হিসেবে কেবল দুইজন অবশিষ্ট রইলেন, তারা হলেন—স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং পরিচালক মাহবুব আলম।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অংশ এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিশেষ একটি পক্ষের অনৈতিক চাপের কারণেই দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়ে তারা একযোগে এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও ভেতরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমানতকারীদের অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ বিতরণ ও কলমানির অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মতো অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি উদঘাটিত হওয়ার পর ২০২২ সালে তৎকালীন পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় উত্তরা গ্রুপের পাঁচ প্রভাবশালী পরিচালক এবং তৎকালীন এমডি এসএম শামসুল আরেফিনকে অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর পর্ষদ পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক ধারায় ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও নতুন করে তৈরি হওয়া সংকট প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিলো।
আবা/এসআর/২৬
