পে-স্কেলের প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ানোর আহ্বান এফবিসিসিআই’র
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:১১ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল অনুমোদনের কারণে বাজারে যেন জিনিসপত্রের দাম না বাড়ানো হয়, এমন আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ঋণপত্র বা এলসি খুলতে না পারলে এবং জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন না হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। সরবরাহ কমে যাবে; যা পণ্যের দামকে উসকে দেবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইর কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় নিত্যপণ্যের আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর প্রশাসক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে স্কেল বা বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের উচিত ভোক্তাদের আশ্বস্ত করা যে- পে স্কেলের সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের অঙ্গীকার করা উচিত যে পণ্যের দাম বাড়বে না। একই সঙ্গে তিনি সভায় যেসব মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শ এসেছে সেগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবেন জানান।
মুক্ত আলোচনায় শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ৎ মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। খোলা বাজারে যে চিকন চালের কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত করে একই চাল বিক্রি করে ৭০ টাকায়। এভাবেই সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে। কর্পোরেটদের লাগাম না টানলে সিন্ডিকেট রোধ করা যাবে না।
চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলভীবাজারে পুলিশ সদস্যরা চাঁদা নিচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মীরাও চাঁদা নেয়। উভয়মুখী চাঁদার চাপে ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়েছেন।
গত দুই সপ্তাহে ময়দার বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, এভাবে তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রধান তিন কাঁচামাল ময়দা, তেল ও চিনির দাম অস্বাভাবিক আকারে বেড়েছে। ব্যবসায় টিকতে না পেরে গত ছয় মাসে অন্তত ২০টি বেকারি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
তেল-চিনি ও ময়দার দাম না কমলে অচিরেই তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে পাউরুটি ও বিস্কুটজাতীয় পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়াবে বলেও জানান তিনি।
আবা/এসআর/২৬
