বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে।

তবে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে।

এদিকে মার্কিন ডলার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। ডলারের দাম শক্তিশালী হলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

সুদহার উচ্চ থাকলে সুদ থেকে আয় করা সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কিছুটা কমতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মূল্যস্ফীতি ভবিষ্যতে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় গত সপ্তাহে সুদহার বাড়ানোর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছেন। তবে চলতি বছর সুদহার নির্ধারণকারী ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটিতে ভোটাধিকার না থাকা কলিন্স ভবিষ্যতে আবার সুদহার বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিনির্ধারণী সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বছর শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়িয়েছে।

বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলার থাকবে—এমন পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাঁদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ কেনার কারণে দাম ৩ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে।