রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ
রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দুলাল আলী মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন এক নারী। গত ৪ জানুয়ারি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষকের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলে। গত ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮-৯টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরদিন (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং পরে জনৈক এক নারীকে ‘বউ’ সাজিয়ে এবং আরও তিন সহযোগীসহ বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে ভুক্তভোগীকে মারধর ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাসায় একা ফেলে রেখে গ্যাস ও পানি সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, তিনি থানায় মামলা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তার মুরুব্বীরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লার নম্বরে কল দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সভাপতি ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা বিষয়টি মুখে মুখে শুনেছেন, তবে থানা বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক অসুস্থতার কারণে এক মাসের ছুটি নিয়েছেন এবং বর্তমানে বিভাগে আসছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগী নারী মৌখিকভাবে বিষয়টি জানালেও লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ওসি মো. এমরান হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি প্রথমে না বলেন, পরে জানান—এ বিষয়ে তিনি এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না।
