বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণ করল ইবি ছাত্রদলের আহবায়ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ
ইবি প্রতিনিধি

নিয়োগ বোর্ড আটকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আনুমানিক বেলা ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তাকে তুলে নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়।
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতি বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি বাইকে তুলে নিতে দেখা যায়। পরে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, আজকে বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ বোর্ড ছিল। বিভাগের সভাপতি এ উদ্দেশ্যে সকাল আটটার দিকে তার ঝিনাইদহের বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এদিকে সকাল ১০ টায় নিয়োগ বোর্ডের সময় নির্ধারিত থাকলেও ঘন্টাখানেক পরে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়।
এই বোর্ডে ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দুপুরের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অপহরণকৃত ওই শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি।
শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কল দিচ্ছিলো। তিনি অসুস্থ থাকাতে প্রথমে যেতে পারবেন না বলে জানান। কিন্তু বারবার কল দেওয়ায় অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বের হয়ে পড়েন। তিনি যখন বাসার নিচে নামে তখন একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শুনেন।
ভাবছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠানো হয়েছে তাকে নিতে। কারণ মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কল দেওয়া ব্যক্তি বলেছিলেন, গাড়ি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এর প্রায় আধাঘন্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়ি চালক হাসমত নামের একজন কল দিয়ে তার অবস্থান জানতে চান।
তিনি জানান, তাকে নিতে আসছেন। এরপর থেকে তার নিজস্ব ও অফিসের মোবাইল নম্বরে কল দিচ্ছিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা তাকে অপহরণ করবো কি জন্য। সে কোথায় আছে জানি না। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’ তিনি ক্যাম্পাসে এসে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক ভাইয়ের আমার অবস্থান সুস্পষ্ট। আজ সকালে THM বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় আমাকে ফোন দিয়েছিলেন এবং আমি নিজে সশরীরে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোটভাই। উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রেজিস্টার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে এবং গতপরশু সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে THM বিভাগে গুটিকয়েক লোক পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ৪ জন শিক্ষককে জোরপূর্বক মারধর হুমকি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ৪ জন শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জোরপূর্বক ডিলিট করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ প্রক্টর তাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার সার্থে জুয়েল আমার কাছে ছিলেন। জুয়েল এই মুহূর্তে তাঁর নিজ বাসা ঝিনাইদহে অবস্থান করছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে কোনোভাবেই বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
