ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইবিতে ইফতারে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রতিবাদ

ইবিতে ইফতারে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রতিবাদ

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)–এর হলগুলোতে ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল প্রশাসন। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে এ বিজ্ঞপ্তি দেয় হল প্রশাসন।

এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলে ইফতারের আয়োজন করা হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রভোস্ট কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “পবিত্র রমজানে ইফতার করানো যেখানে সওয়াব ও মহৎ কাজ হিসেবে বিবেচিত, সেখানে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আয়োজন করা স্পষ্ট বৈষম্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিচায়ক। নিয়মিত হল ফি প্রদান করেও তারা ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ধরনের অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে সমতা, ন্যায় ও সহমর্মিতাভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই আয়োজনটি শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিষয়টি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, তারাও হলের বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেন এবং রমজান মাসে পড়াশোনার স্বার্থেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থাকেন। তাই তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করে অতি দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই এ উদ্যোগটি সত্যিকার অর্থে আরও অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।”

অন্যদিকে, শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আপনাদের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা। তাই বলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুক, নইলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।”

ইবি খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান ভিন্ন আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, “বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করছি। হলের সিট ব্যতীত ভার্সিটির সকল সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি। আবাসিকের শর্ত দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে চায়, আপনারা তাদের সিটের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন কি? তাদের সবাইকে আপনারা আবাসিক রাখার ক্যাপাসিটি রাখেন? তাহলে কেন আবাসিকের শর্ত দেন? রাবিসহ অন্য ভার্সিটিগুলো উন্মুক্ত ইফতারির আয়োজন করতে পেরেছে, আপনারা কেন পারেন না? না পারলে আবাসিক-অনাবাসিকের শর্ত উল্লেখ করে বিভাজনমূলক ইফতার আয়োজন বাদ দিন। অন্যথায় আবাসিক-অনাবাসিক সবার জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।”

অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রতিবাদ,অনাবাসিক শিক্ষার্থী,ইবিতে ইফতার
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত