
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে হত্যার সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বেলা ১২টায় প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি করেন তারা।
এসময় ইবি ক্যাম্পাস থেকে নিখোঁজ ও হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ছায়া চরিত্রে প্রতিবাদ জানান সংগঠনটির সদস্যরা। একই সঙ্গে প্রশাসনের আশ্বাস ও অযোগ্যতার চরিত্রেও অভিনয় করতে দেখা যায় প্রতিবাদিদের।
এসময় ওলি উল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের চরিত্রের প্রতিবাদী বলেন, এক যুগ আগে আমরা এই ক্যাম্পাস থেকে নিখোঁজ হয়েছি। আমার পরিবার প্রতিনিয়ত আমাদের জন্য অপেক্ষা করে। আমার বাবা-মার অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। এমনকি তারা জানেও না আমরা জীবিত নাকি মৃত। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি আমাদের খোঁজ কোনোদিন পাবে!
সাজিদ আব্দুল্লাহ'র চরিত্রের প্রতিবাদী বলেন, “আমি সাজিদ আব্দুল্লাহ, বড় স্বপ্ন নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফিরতে হয়ে লাশ হয়ে। আমার স্বপ্ন চাপা পরেছে মাটির নিচে। এই ক্যাম্পাসের পুকুরে আমার লাশ ভেসেছে কিন্তু প্রশাসন খুনিকে খুঁজে পায়নি। এ প্রশাসন কি আমার হত্যার বিচার করতে পারবে?”
সদ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনার চরিত্রে তাসমিন রহমান বলেন, আমি বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বিভাগের সভাপতি হয়েছিলাম বিভাগের উন্নয়ন করবো বলে কিন্তু নিজ অফিসে আমাকে ছুরির আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আমি শিক্ষিকা হয়েই যেখানে নিরাপদ না এ ক্যাম্পাসে আমার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কই?
প্রশাসনের চরিত্রে থাকা মিশুক শাহরিয়ার বলেন, মাত্র ১৩ বছর আগে গুম হয়েছে ওলি উল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। এত অল্প সময়ে কি খোঁজ পাওয়া সম্ভব? আর সাজিদের বিষয়ে তো প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। সাজিদের বিচার হবেই। আমাদের চোখ তো কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা। এতকিছু তো আমরা দেখি না বাবা তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সব।
সংগঠনটির আহ্বায়ক শান্ত শিশির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক যে গুম ও খুনের ধারাবাহিকতা চলছে, তার দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তিই আমরা দেখতে পাচ্ছি না। শাস্তি দূরের কথা খুনি সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রশাসন। যেখানে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিকশিত হওয়ার কথা, সেখানে দাগ পড়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীর রক্তের। বিচারহীন রক্তের।
তিনি আরও বলেন, এই গুম, খুন, হত্যার সংস্কৃতি যদি বন্ধ না হয় তাহলে না কখনো নিরাপদ থাকবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আর না জীবনকে নিরাপদ ভাবতে পারবে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থী। তাই এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন আমার প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসকে গ্রাস না করে, নিরাপত্তাহীন ত্রাসের রাজত্ব যেন এই পবিত্র প্রতিষ্ঠান না হয়ে ওঠে, আমরা কালচারাল সোসাইটি সেই চিন্তা থেকেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছি।