নবীনবরণে হামলায় শিবিরকর্মীরা শহীদ হন: রাবিতে সিবগাতুল্লাহ সিবগা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা শহীদ হন। তারা চেয়েছিল ছাত্রশিবিরের পথচলা বন্ধ করে দিতে। কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি; বরং শহীদদের রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সারা বাংলাদেশে আরও বিস্তার লাভ করেছে।”

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল তিনটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর বুদ্ধিজীবী চত্বরে শিবিরের শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, “আমরা আদর্শের লড়াইয়ের রাজনীতি করে আসছি। রাসুল (সা.)-এর শেখানো আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা দলে দলে সংগঠনে যোগদান করতে থাকে। তবে সংগঠনটির ইতিবাচক কার্যক্রম দেখে কিছু মহল এই দাওয়াতি কার্যক্রমকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

কেন্দ্রীয় এই সেক্রেটারি বলেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শহীদ সাব্বিরের হত্যাকাণ্ডসহ শিবিরের চারজন নেতাকর্মীর হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছিল। যারা একসময় শিবিরের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তারা আজ সংখ্যালঘু দলে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তারা ১ শতাংশ ভোটও পায় না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের কার্যকলাপের কারণে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি আরও বলেন, “আগামী বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে ইসলাম, ইনশাআল্লাহ। তাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।”

আলোচনা সভায় রাবি শাখার সেক্রেটারি মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে রাবি শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আজকে ১১ মার্চ আমরা যেভাবে ব্যথিত হই আমাদের চারজন সাথী ভাইকে হারিয়ে, ঠিক একইভাবে আমরা গর্বিত হই— যে বাংলাদেশের এই জনপদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে শাহাদাতের ধারা রচিত হয়েছিল প্রথম শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাব্বির ভাইয়ের রক্তের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের ভাইদের ওপর বর্বর হামলা চালায় সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাদেরকে এক ইটের ওপর মাথা দিয়ে অন্য ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। কিন্তু সেই সন্ত্রাসীরা এখনো রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে অতিদ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

এসময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. আবুল হাশেম, জামায়াতের রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী মহানগর শিবিরের সেক্রেটারি ডা. সাখাওয়াত হোসেন এবং শহীদ সাব্বিরের ছোট ভাই আকরাম হোসেন।

এছাড়াও রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।