ইবি শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় ১ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি বাকি আসামিরা
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার এক মাস পূর্ণ হয়েছে আজ। হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হলেও বাকি তিন আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা আসামিরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন গত ৫ মার্চ সকালে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরে তিন আসামিকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এদিকে আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ এবং সর্বশেষ কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন নিহতের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পুলিশের অবহেলায় আসামি গ্রেফতার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, এ মামলায় পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই। মামলা হওয়ার পরেই আমরা আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা আসামিদের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। একজন আসামির বাড়ি সাতক্ষীরায়। তাকে গ্রেফতারের জন্য ওই এলাকার থানায় চিঠি ইস্যু করেছি। আসামি গ্রেফতার ছাড়াও একটি মামলায় তদন্তের অনেক কাজ থাকে, আমরা সেগুলো করে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে পুলিশ এ মামলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনার ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত নিথর দেহ পাওয়া যায়।
প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই সময় ভেতর থেকে আটকানো সভাপতির ওই কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহত্যার চেষ্টারত অবস্থায় দেখেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলার পর প্রধান আসামি হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সর্বশেষ তার অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
