শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে মৌন মিছিল
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শোক ও প্রতিবাদে মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ব্যানারে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ১৫ জন শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মৌন মিছিলটি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষদ ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মো. মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা, পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজল।
এ সময় আন্দোলনকারীরা তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন—‘হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত’, ‘অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ এবং ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো’, ‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘হত্যার বিচার না হলে নিরাপত্তা কোথায়’, ‘আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই’, ‘শিক্ষকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব’, ‘নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, প্রতারণামুক্ত বিচার চাই’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এ সময় অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি জানাই। তার হত্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—তার সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধই তাকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অনিয়ম ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। রুনা ম্যাডাম যখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান, তখনই তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এর আগে, গত ৪ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টারত অবস্থায় ঘটনাস্থলে দেখে শিক্ষার্থীরা। পরে উভয়কে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় একই বিভাগের দুই শিক্ষক, সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আসামি করা হয়। তবে বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমান জেল হাজতে আছেন। এছাড়া বাকি আসামিরা এখনও অধরা রয়েছেন।
