ইবিতে ‘দায়সারা’ নববর্ষ উদযাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  ইবি প্রতিনিধি

বাংলা বছরের দ্বিতীয় দিনে নববর্ষ উদযাপন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। এ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে আয়োজনকে ‘দায়সারা’ উল্লেখ করে এতে অংশ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) উদযাপন শেষে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়কের দাবি, অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।

নববর্ষের প্রথম দিন আয়োজন না করা, ছাত্রসংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ না জানানো এবং যথাযথ প্রচারণার অভাব—এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় অংশগ্রহণও ছিল অনেক কম। যেখানে আগের বছর বিভিন্ন বিভাগের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, সেখানে এবার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ দুই শতাধিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাখা আহ্বায়ক এস এম সুইট অভিযোগ করেন, নববর্ষ উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি বা সময়সূচি সম্পর্কে তারা আগে থেকে জানতেন না। তার দাবি, প্রশাসন ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই তড়িঘড়ি করে একটি দায়সারা আয়োজন করেছে।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে পারেনি। নির্ধারিত দিনের পরিবর্তে পরের দিন আয়োজন করাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অধিকাংশ বিভাগ, আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি, ফলে আয়োজনটি সর্বজনীন হয়নি।

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন শুরু থেকেই অদক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে এবং এবারের নববর্ষ আয়োজনও তার ব্যতিক্রম নয়। সারাদেশে যখন পহেলা বৈশাখ জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয়েছে, তখন ইবিতে একদিন পরে সীমিত আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান জানান, সরকারি ছুটির কারণে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রান্তিক এলাকায় হওয়ায় প্রথম দিনে ক্যাম্পাসে উপস্থিতি কম থাকে। এ কারণে পরের দিন আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সবার কাছে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, যদিও তারিখ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তির কারণে দেরি হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।