ইবিতে খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের দুঃখপ্রকাশ
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৬ | অনলাইন সংস্করণ
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেন তারা।
এর আগে গতকাল সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউট্যাব’, ‘জিয়া পরিষদ’ ও ‘জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট’।
এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনার হত্যার বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অবস্থানকালে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা।
ওই সময় ভেতরে থাকা এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। তন্মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পতাকা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ছিল বলে জানা যায়।
পরে গতকাল শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশের পর আজ (২০ এপ্রিল) বিষয়টি স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলনে এসব ব্যাখ্যা দেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) বিকেলেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি—গতকাল আমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমরা জানি না; তারপরও যদি তারা কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চাই না ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ রাজনৈতিকভাবে অন্যদিকে ডাইভার্ট করুক।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখ উদযাপনের দিনে (১৫ এপ্রিল) আমাদের একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ ছিল। চার দফা দাবি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে যাই। একপর্যায়ে দাবি আদায়ে যখন আমরা প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দিই, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেতরে আটকা ছিলেন। তারা আমাদের বলছিলেন, “আপনারা গেট খুলে দেন।” শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের তাড়া বা বেশি সমস্যা ছিল, তাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে কর্মচারীদের বলা হয়েছিল, “ভিসি স্যার আসা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন, কথা বলে সন্তুষ্ট হলে আপনাদের ছেড়ে দেব।”
এ সময় তারা বলেন, একপর্যায়ে রেজিস্টারভুক্ত কর্মচারী কি না জানা নেই, একজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এবং আমাদের ছাত্রীদের সঙ্গে স্লেজিং করেন। তিনি রাগান্বিত হয়ে তেড়ে আসার চেষ্টা করেন এবং হুমকি-ধামকি দেন। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। গেটের বাম পাশের অংশটি বিভিন্ন ব্যানারে ঢাকা থাকায় পুরো দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল না। তিনি ব্যানারের ওপাশে লুকিয়ে গেলে নিচ থেকে তার পা দেখা যাচ্ছিল। তাকে খুঁজতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বেখেয়ালে ব্যানার সরাতে গেলে সেগুলো ছিঁড়ে পড়ে যায়। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করিনি; আমরা ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতেই সেখানে গিয়েছিলাম।
তারা আরও বলেন, এটি আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পরে জানতে পারি, সেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইউট্যাবের ব্যানার ছিল। কোন ব্যানারটি ছিঁড়েছে তা আমরা নিশ্চিত নই। পরবর্তীতে আমরা সেগুলো পুনরায় লাগানোর চেষ্টা করেছি এবং যতটুকু সম্ভব লাগিয়েও দিয়েছি।
