ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনায় চবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনায় চবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। মিছিলটি জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে আলাওল হল প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর গেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

এ সময় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা “গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”, “একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর”, “গুপ্তদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রশিবির রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই স্থান জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলটি আলাওল হল হয়ে নিরাপত্তা দপ্তর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে”, “সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”, “ছাত্রদলের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “বিচার চাই বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই”, “গুপ্ত বলিস কাদেরকে, তুই ছিলি লন্ডনে”, “শিবিরের অপর নাম, আদর্শের সংগ্রাম” ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুপ্ত ছাত্রশিবির হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। এ সময় তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, আমরা সবাই জানি, চোরের ১০ দিন আর গৃহস্থের এক দিন। ৫ আগস্টের পর আজ চোর ধরা খেয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ লেখা থাকলেও গুপ্তভাবে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যারা নষ্ট করতে চাইবে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করবে। আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুল্লাহ খালেদ বলেন, লন্ডন থেকে একজন এসে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংসদে বসে আছে। আর তার সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। আমরা বলতে চাই, তাদের কখনো আওয়ামী লীগের মতো হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। আমরা আমাদের ভাইদের ওপর প্রতিটি আঘাতের বদলা নেব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।

চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। কিন্তু সেই মিছিলে আবারও হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের এনে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা যেভাবেই হোক ক্ষমতায় এসেছেন, দেশের মানুষ আপনাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মানুষ চায় না।

এ সময় চাকসু ভিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ক্যাম্পাসগুলো অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,চবি,ছাত্রদল,ছাত্রশিবির,সংঘর্ষ,বিক্ষোভ,চট্টগ্রাম সিটি কলেজ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত